Friday, October 16, 2026

 

The following is a republication of story #203 from Golpe AtmoVidya (Volume 2, page #1) as it appears in its original (Bengali) form:

 

 

 

 

 

*প্রথম অধ্যায়*

*২০৩* 

জনৈক ভক্তের সঙ্গে কথোপকথনকালে শ্রীশ্রীবাবাঠাকুর বললেন—পান্নালাল ভট্টাচার্য যিনি রেডিওতে গান গাইতেন, তাঁরই পরিচিত কয়েকটি ছেলে কাঁকুলিয়া রোডের বাসায় আসত। পান্নালাল সেই ছেলেদের মুখে ‘এর’ (নিজেকে নির্দেশ করে) কথা শুনে ‘এর’ সঙ্গে দেখা করার খুব আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আসব আসব করেও শেষ পর্যন্ত আসতে পারেননি, মারাই গেলেন। দেখা হলে হয়ত তাঁর জীবনটা অন্যরকম হত, নূতন করে বাঁচার অর্থ খুঁজে পেতেন। এত সুন্দর মায়ের গান গাইতেন অথচ তাঁর জীবনের এ রকম পরিণতির কারণ হল, তাঁর সব কিছু থাকা সত্ত্বেও একটি জিনিসের অভাব ছিল—তা হল গুরুশক্তি। 

গুরুশক্তি যে কী ভাবে রক্ষা করে, একজনের জীবনের ঘটনা শুনলে বুঝতে পারবে—এক ভদ্রলোক রোগ, শোক এবং সাংসারিক অশান্তিতে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। নিজের জীবন শেষ করে দেবার জন্য তিনি ছয়বার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনও বারই কৃতকার্য হননি। কারণ যতবার আত্মহত্যা করতে যান ততবারই ধরা পড়ে যান। শেষবারে তিনি মাঝ নদীতে নৌকা নিয়ে গেলেন এবং রিভলভার দিয়ে নিজেকে গুলি করে জলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন—এই ঠিক করলেন। কিন্তু এমনই কপাল গুলিটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। আর যে বাঁশটি সঙ্গে নিয়েছিলেন জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সেটাও হাত ফসকে পড়ে গেল। সেই মুহূর্তে গুরু এসে উপস্থিত হলেন। গুরু তাকে বললেন—কী রে পারলি? যে দেহ তুই আমাকে সঁপে দিয়েছিস সেটা এখন তোর নয়। নিজের ইচ্ছা মতো তা নষ্ট করার অধিকার যে তোর নেই তার প্রমাণ তুই আজ পেয়ে গেলি! ভক্তটি তখন সব বুঝতে পারলেন এবং নিজেকে গুরুচরণে পূর্ণ সমর্পণ করে পরিণত বয়সে এক বিরাট সাধু হয়েছিলেন। 

১২। ৩। ৭৩

 

No comments:

Post a Comment